ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেছেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেই আজকের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুবদলকে রাজপথের দাবানল হিসেবে চেনেন। যুবদল হচ্ছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি সংগঠন।”
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সজল বলেন, “যে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেই সরকারের আর কোনো জায়গা হবে না। বিগত ১৫ বছরে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম, নির্যাতন ও মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও গুলি চালানো হয়েছে। দেড় দশকেরও বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। হামলা-মামলা, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মীরা মাঠ ছেড়ে যায়নি। সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মীর অনুপ্রেরণা। আগামী দিনেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
যুবদলের সাংগঠনিক শক্তির কথা উল্লেখ করে মহানগর যুবদলের এই আহ্বায়ক বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল আনন্দ-উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করার দিন। সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, “যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হবে। যুবদলের নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের বিপদে-আপদে সহযোগিতা করা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করাও আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।”
সজল আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। যুবদলকে শুধু রাজপথের আন্দোলনে নয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালির আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

