সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিকভাবেও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। অথচ মাতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনেক নারীকে শুনতে হয় শরীর ও চেহারা নিয়ে নানা কটাক্ষ। বিশেষ করে বিনোদন জগতের তারকাদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসার চাপ বেশি দেখা যায়।
এবার মাতৃত্বের পর নারীদের শরীর নিয়ে এমন সমালোচনা ও সামাজিক প্রত্যাশার বিরুদ্ধে সরব হলেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। তার মতে, সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সে বিষয়ে মানুষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। মাতৃত্বের পর কোনো নারীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করা কিংবা তাকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া মোটেও উচিত নয়।
সন্তান জন্মের পর নারীদের দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসার যে সামাজিক প্রত্যাশা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাটরিনা। বিশেষ করে ‘বাউন্স ব্যাক’ শব্দবন্ধটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর প্রশ্ন, সন্তান জন্মের পর কেন একজন নারীকে আবার আগের চেহারায় ফিরে যেতে হবে?
ক্যাটরিনার মতে, মাতৃত্ব জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। যে অভিজ্ঞতা একজন নারীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হতে পারে, সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর কেন তাকে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার তাড়া দেওয়া হবে? বরং এই নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে নারীদের সময় দেওয়া উচিত।
মা হওয়ার পর নিজের শরীর ও ফিটনেস নিয়েও সচেতন ক্যাটরিনা। নিজের শরীর কখন সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষম ও সতেজ থাকে, সে বিষয়ে তার ধারণা রয়েছে। তবে সেই অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে চান না অভিনেত্রী। বরং নিজের শরীরের চাহিদা বুঝে, নিজের গতিতেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
মাতৃত্বের পর দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসার চাপ নারীদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে তারকাদের ক্ষেত্রে শরীরের পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। ফলে মাতৃত্বের মতো স্বাভাবিক একটি অভিজ্ঞতার পরও অনেক নারীকে চেহারা ও ফিটনেস নিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হয়।
ক্যাটরিনার বক্তব্যে উঠে এসেছে, মাতৃত্বের পর নারীর শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বরং শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, নিজের সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেত্রীর এই অবস্থান মাতৃত্বের পর নারীদের শরীর নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও সামাজিক প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। তার বক্তব্যের মূল বার্তা, প্রতিটি নারীর মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের শরীরকে সময় দেওয়া এবং পরিবর্তনগুলোকে সম্মান করাই জরুরি।

