বলিউড অভিনেত্রী কাজলের বোন তানিশা মুখোপাধ্যায়। বয়স ৪৮ পেরোলেও বিয়ে করেননি তিনি। তবে ভবিষ্যতে মা হতে চান তিনি। আর সেই ভাবনা থেকেই আগেভাগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।
কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এবার তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
বিয়ে ও মাতৃত্ব নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের শর্তে জীবন কাটাতে চান তানিশা। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে এবং সন্তানধারণ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর বক্তব্য, শুধু বয়স বাড়ছে বলে কিংবা সামাজিক চাপের কারণে বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চান না তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করিয়েছিলেন তানিশা। তবে সেই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন কয়েক বছর পরে। উপযুক্ত জীবনসঙ্গীর অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে ভবিষ্যতে মাতৃত্বের সম্ভাবনা হারাতে চাননি বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
তানিশার মতে, বিয়ে কেবল সামাজিক নিয়ম পালনের বিষয় নয়, বরং দুজন মানুষের আত্মিক বন্ধন। তাই সমাজের চাপে পড়ে বিয়ে করা কিংবা দ্রুত সন্তান নেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। জীবনে উপযুক্ত মানুষকে পাশে না পেলে শুধু বয়সের কারণে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিতেও রাজি নন এই অভিনেত্রী।
সন্তান বড় করে তোলার ক্ষেত্রেও নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তানিশা। তার মতে, একটি শিশুর বেড়ে ওঠায় মা ও বাবা দুজনেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী চান, যিনি সন্তানের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে প্রস্তুত থাকবেন। তেমন কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চান না তিনি।
তবে ভবিষ্যতে তার ভাবনা বদলাতেও পারে বলে জানিয়েছেন তানিশা। অর্থাৎ, মাতৃত্ব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি।
তানিশার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতীতেও কম আলোচনা হয়নি। অভিনেতা উদয় চোপড়া ও অরমান কোহলীর সঙ্গে তার সম্পর্ক একসময় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিল। উদয় চোপড়ার সঙ্গে প্রেমের বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
২০১৩ সালে ‘বিগ বস ৭’-এ অংশ নেওয়ার সময় অরমান কোহলীর সঙ্গে তানিশার ঘনিষ্ঠতা দর্শকদের নজর কাড়ে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। তবে ২০১৪ সালে তাদের বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে। পরে তানিশা জানিয়েছিলেন, চিন্তাভাবনা ও মতের অমিল তাদের সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ ছিল।
বিয়ে না করলেও ভবিষ্যতে মা হওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখতে আগেভাগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ- তানিশার এই সিদ্ধান্ত আবারও সামনে এনেছে ব্যক্তিগত পছন্দ, মাতৃত্ব ও সামাজিক প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা।

