অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে সম্পন্ন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ তৎপরতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে নারায়ণগঞ্জবাসীকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ উৎসব উপহার দেওয়া হয়েছে। পূজা উদযাপনকালে জেলাজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উৎসবমুখর আবহ। শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে নগরীর ৫ নম্বর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম শেষ হয়। এবার জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ২১৪টির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। ২৫টি মণ্ডপের প্রতিমা এবার বিসর্জন দেওয়া হবে না। বাকি একটি মণ্ডপের প্রতিমা পরে বিসর্জনের কথা রয়েছে।
উৎসবের দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মণ্ডপের পরিবেশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নারায়ণগঞ্জ সফর করেন।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। পরিদর্শনকালে তিনি এখানকার উৎসবমুখর পরিবেশ এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্প্রীতির প্রশংসা করেন।
পরিদর্শন দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা (মন্ত্রী), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। উৎসবটি নির্বিঘ্ন ও ত্রুটিহীন রাখতে প্রথম দিন থেকেই মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং জেলা প্রশাসনের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জেলাজুড়ে সার্বক্ষণিক টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রাখে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (নউক) চেয়ারম্যান মাসিকুল ইসলাম রাজিব পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা এবং আনুষঙ্গিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করেছেন।
উৎসবকে সার্বজনীন ও উৎসবমুখর করতে এবং মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা -সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মণ্ডপে মণ্ডপে পাহারা দেওয়া এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাঁদের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর আশার সঞ্চার করেছে।
দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এই শারদীয় উৎসব। শীতলক্ষ্যা নদীর নির্ধারিত ঘাটগুলোতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় নারায়ণগঞ্জবাসী এক অনন্য সম্প্রীতির শারদীয় উৎসব প্রত্যক্ষ করলো।

