শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে নারায়ণগঞ্জ শহরে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার বাস চলাচলে বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিসর্জনের শোভাযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট সড়ক ব্যবহার এবং কয়েকটি পথে একমুখী যান চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, চাঁদমারী মোড় থেকে সব আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার বাসকে ইউটার্ন নিয়ে ফিরে যেতে হবে। এ মোড় অতিক্রম করে মেট্রো হলের সামনের মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কিংবা বঙ্গবন্ধু সড়কে কোনো বাস চলাচল করতে পারবে না।
বাস পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার আঞ্চলিক বাস এবং মেট্রো হল মোড়ের দূরপাল্লার বাসগুলো হাজীগঞ্জ নতুন সড়কে পার্কিং করতে পারবে। অন্যদিকে, নিতাইগঞ্জ থেকে আসা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১টার আগে মণ্ডলপাড়া সেতু পার হতে পারবে না।
প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পূজামণ্ডপগুলোর জন্য তিনটি পৃথক রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। পঞ্চবটী এলাকার শোভাযাত্রা চাষাঢ়া ও ২ নম্বর রেলগেট হয়ে বিসর্জন ঘাটে পৌঁছাবে। নিতাইগঞ্জ ও টানবাজার এলাকার শোভাযাত্রা মণ্ডলপাড়া সেতু পেরিয়ে ২ নম্বর রেলগেট দিয়ে ঘাটে যাবে। আর বরফকল মাঠ ও খানপুরের শোভাযাত্রা মেট্রো হল মোড়, মিশনপাড়া ও চাষাঢ়া হয়ে একই পথে বিসর্জনস্থলে পৌঁছাবে।
বিসর্জন শেষে ফেরার পথেও যান চলাচলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ঘাট থেকে খালি যানবাহন কাঠপট্টি রোড ও মাউরা হোটেল হয়ে মেট্রো হল মোড় দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারবে। ঘাট থেকে মাওয়া হোটেল হয়ে মেট্রো হল পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলবে একমুখীভাবে। তবে মেট্রো হল মোড় থেকে মাউরা হোটেল কিংবা কালীবাজারের দিকে কোনো যানবাহন যেতে পারবে না।
এ ছাড়া ২ নম্বর রেলগেট থেকে ১ নম্বর রেলগেট হয়ে বিসর্জন ঘাট পর্যন্ত এবং ১ নম্বর রেলগেট থেকে কালীবাজারমুখী সড়কে একদিকে যান চলাচল করবে। এসব পথে বিপরীত দিক থেকে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে চাঁদমারী, সরকারি মহিলা কলেজ, মেট্রো হল, গলাচিপা মোড় ও মণ্ডলপাড়া সেতু এলাকায় ছয় আসনের বড় আকারের অটোরিকশার ইউটার্ন ব্যবস্থা চালু রাখবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে পূজামণ্ডপের আয়োজক, পরিবহনচালক এবং নগরবাসীকে নির্ধারিত ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

