নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন, মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আদালতের অবকাশকালীন ছুটি শেষে কার্যক্রম শুরু হলে মামলাগুলোর শুনানি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) তিনি এ তথ্য জানান। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বহুল আলোচিত এই তিনটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষা চলছে। আদালতের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আদালত খুললে মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশজুড়ে আলোচিত এই তিন হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিচারিক আদালতের রায়ের পর হাইকোর্টেও দণ্ড বহাল থাকলেও আপিল বিভাগে শুনানি বাকি রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ আদালতে মামলাগুলোর শুনানি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে আইনজীবী চন্দন সরকার ও সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহৃত হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
কক্সবাজারের টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস এবং বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
হাইকোর্টের রায়ের পর মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। মামলাটিও বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরদিন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আলোচিত এই তিন হত্যা মামলার আপিল শুনানি দ্রুত শুরু হলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি আসতে পারে। তবে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আপিল বিভাগের কার্যতালিকা এবং আদালতের কার্যক্রমের ওপর।

