একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ছিল দৃশ্যমান প্রভাব। জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, মেয়র ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নিয়মিত সরব থাকত রাজপথ। সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ছিল দলটির বড় ধরনের সাংগঠনিক উপস্থিতি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নেই। দলের র্শীষ নেতা থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যায়ের অনেক নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন, কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেকে এলাকা ছেড়েছেন।
আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্য কর্মসূচিতে না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন বক্তব্য, পোস্ট ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আছেন।তবে মাঠের রাজনীতির চিত্র ভিন্ন। ২০২৬ সালের জুনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনেও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
একই বছরের সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে দলটির প্রকাশ্য তৎপরতা চেষ্টা করেন কিন্তু র্শীষ নেতাকে দেখা যায়নি। ২০ সেপ্টেম্বরের আওয়ামী লীগের ডাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচির কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নারায়ণগঞ্জে পড়েনি এবং রাজপথে দলটির নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা স্থানীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, মেয়র থেকে শুরু করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব সব পর্যায়েই ছিল তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি।
৫ আগস্টের পর সেই নেতৃত্বের বড় একটি অংশ প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে সরে যায়। সাবেক মন্ত্রী, সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আত্মগোপন বা গ্রেপ্তারের হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
ফলে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর হঠাৎ প্রকাশ্য রাজনৈতিক মাঠ থেকে আওয়ামী লীগের বড় অংশের সরে যাওয়া তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনেকেই বর্তমানে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ।
তবে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের ছোট পরিসরে ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের জানান দেওয়া চেষ্টা করছেন।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলটির সাংগঠনিক অবস্থান এবং নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগের ওপর। বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রকাশ্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
একসময় যে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজপথ সরগরম থাকত, সেখানে এখন দলটির প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই বললেই চলে । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন বক্তব্য কিংবা ছোট পরিসরের কর্মসূচির বাইরে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে দৃশ্যমান সাংগঠনিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দলটির সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার বিষয় দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার পর আওয়ামী লীগ কীভাবে নতুন বাস্তবতায় নিজেদের সংগঠন পুনর্গঠন করবে, নাকি বর্তমান নীরবতাই আরও র্দীঘ হবে।

