নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঐতিহাসিক শহীদ জিয়া হল পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মাটি পরীক্ষা তথা সয়েল টেস্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে চাষাঢ়াস্থ হলের প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজের শুভ উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক জিয়া হলকে নতুনভাবে গড়ে তোলা স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা পূরণে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জিয়া হল নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে একটি ঐতিহাসিক ও আবেগের জায়গা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দাবি ছিল, পুরোনো এই স্থাপনাটিকে ভেঙে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি বহুতল ভবন হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হোক। জনগণের সেই দীর্ঘদিনের চাহিদাকে সামনে রেখে আমরা কাজটি এগিয়ে নিচ্ছি।’
আবুল কালাম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা জিয়া হল পুনর্নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছি। আজকের সয়েল টেস্ট সেই বড় কাজেরই প্রথম ধাপ। মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই মূল নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি জিয়া হল নির্মাণ করতে চাই, যেটি শুধু একটি ভবন হবে না; এটি নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নাট্যচর্চা, জ্ঞানচর্চা, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থাকবে।’
সংসদ সদস্য বলেন, ‘নতুন জিয়া হল হবে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও যুগোপযোগী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনায় নিয়ে এর নকশা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হবে। নিচতলা ও বেজমেন্টে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি নাট্যশালা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার এবং যুবকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন, প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কাজটি সম্পন্ন করতে চাই। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জিয়া হলকে এমন একটি আধুনিক স্থাপনায় রূপ দেওয়া হবে, যা নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।’
আবুল কালাম আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় জিয়া হল আগের চেয়েও অনেক সুন্দর, আধুনিক ও আকর্ষণীয় বহুতল ভবন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হবে এবং এখান থেকে নগরবাসী দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।’

