নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (দিপু) বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে এবং শহীদ পরিবারের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় র্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক কর্তব্য। শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হবে না।
বিজয় র্যালির বিষয়ে তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি, ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্যে এমপি দিপু বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, উন্নত ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাত পুনর্গঠনে সময় লাগলেও সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি সম্ভব বলে মনে করেন না। তার ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি হলো, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার নিশ্চিত করা।
রূপগঞ্জের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় রূপগঞ্জকে মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হতো। প্রশাসনের সহযোগিতায় সেই চক্র ভেঙে দিতে কাজ চলছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সফল হলে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাবেশ শেষে বিজয় র্যালিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

