নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত-সমালোচিত নাম মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যু, সামাজিক বক্তব্য এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার অবস্থান ও কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেওভোগের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আলোচিত নেতা জাকির খানের সঙ্গে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং একসঙ্গে অবস্থান নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মুখে থাকা ফেরদাউসুর রহমান এখন নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিএনপির প্রভাবশালী একটি অংশের ছায়া খুঁজছেন। সেই প্রেক্ষাপটে জাকির খানকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন।
জানা যায়, দেওভোগের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ হলেও তা দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে। এ সময় জাকির খানের উপস্থিতি এবং তার সঙ্গে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের ঘনিষ্ঠ অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফেরদাউসুর রহমান জাকির খানকে নিজের অভিবাবক বলার পর থেকেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক ব্যক্তিই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। সেই তালিকায় মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের নামও আলোচনায় এসেছে। তাদের দাবি, তিনি এখন বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চাইছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেকের মতে, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকতেই পারে। শুধুমাত্র একসঙ্গে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা জোটের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যক্তি-সম্পর্ক ও ক্ষমতার সমীকরণ খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে অতীতে এক রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে থাকা কোনো ব্যক্তি পরবর্তীতে অন্য বলয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। কিন্তু এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড ও বাস্তব প্রমাণের ওপর।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান কিংবা জাকির খানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের অভিমত, দেওভোগের মাদ্রাসা ইস্যু আপাতদৃষ্টিতে ধর্মীয় বিরোধ হলেও এর সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নও জড়িয়ে পড়েছে। ফলে আগামী দিনে এই ঘটনাপ্রবাহ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ দিকে জাকির খানের ঘনিষ্ট নেতাকর্মীদের কাছে থেকে জানাযায়,জাকির খান মাদ্রাসার সমস্য সমাধান করার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন তার সাথে সে সময় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন তবে জাকির খান কে ব্যবহার করে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চাইলে তাকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

