পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-মাওয়া অংশে নির্মিত ভায়াডাক্টের নিচে নির্মাণকাজের সময় তৈরি করা অস্থায়ী মাটির রাস্তা অপসারণ করে প্রকল্প এলাকার প্রাকৃতিক জলাভূমি পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়। নির্মাণকাজ চলাকালে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে জলাভূমির ওপর সাময়িকভাবে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন সেই অস্থায়ী মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট চিত্র ও জলাভূমি জরিপে দেখা গেছে, নির্মাণকাজ শুরুর আগে পুরো এলাকাটি প্রাকৃতিক জলাভূমি ছিল। অস্থায়ী মাটির কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। পরিবেশগত দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে জলাভূমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে ফেললেও সেতুর নিরাপত্তা বা কাঠামোগত স্থিতিশীলতার ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ ভায়াডাক্টটি প্রায় ২০০ ফুট গভীরে স্থাপিত শক্তিশালী পাইলের ওপর নির্মিত। ফলে মাটি অপসারণের পরও পাইল ক্যাপ ও মূল অবকাঠামো সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদনে কাজ শেষে অস্থায়ী মাটির রাস্তা অপসারণ করে এলাকাকে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারেই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ভায়াডাক্টের নিচের মোট ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের মাটি অপসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আলীগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় অবশিষ্ট প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশে কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভায়াডাক্টের নিচের পুরো জমি বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার জন্য সংরক্ষিত। এ কারণে সেখানে কোনো অননুমোদিত সড়ক বা স্থাপনা রাখা নিরাপত্তা ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য বিকল্প পাকা সড়ক থাকায় অস্থায়ী মাটির রাস্তার আর প্রয়োজন নেই।

