নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেছেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের এ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি শিশুও যেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় নগর ভবনের টিকাদান কেন্দ্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি হলো সুস্থ ও নিরাপদ শিশু। জন্মের পর থেকেই প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্র বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নিয়মিত টিকাদান ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি বলেন, “শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তাই তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, অভিভাবকদেরও। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের রাতকানা, অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের জটিলতা কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।”
ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসক জানান, নাসিকের ৩৪০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কাজে প্রায় ৮০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, “জনসচেতনতাই এই কর্মসূচির সফলতার মূল চাবিকাঠি। কোনো কারণে যারা নির্ধারিত দিনে শিশুকে কেন্দ্রে আনতে পারেননি, তাদের জন্য আগামী ১৫ দিন নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণের সুযোগ থাকবে। আমরা চাই, নাসিক এলাকার একটি শিশুও যেন এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে।”
দেশব্যাপী একযোগে শুরু হওয়া জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এবারের কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলী, ডা. নাফিয়া ইসলাম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হিরণ, নাসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

