ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নগরীর সৌন্দর্য্য অক্ষুণ্ন রাখতে সড়কের ফুটপাথগুলো হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র আইভী। তার এই সিদ্ধান্তে হকাররা প্রতিবাদ জানালে তাদের সমর্থন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য রাখার ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ মেয়র আইভী নগরীর ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদের ঘোষণা দিলে তাদের আবারও ফুটপাথে বসানোর ঘোষণা দেন শামীম ওসমান। এর প্রতিবাদে নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে মেয়র আইভী তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহ চাষাঢ়া এলাকায় আসেন।
হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আইভীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
সে সময় মেয়র আইভী অভিযোগ করেন, শামীম ওসমানের নির্দেশে তার ক্যাডাররা আমার ওপর এবং নিরীহ শহরবাসীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমিসহ নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছি। আমি নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে চাষাঢ়া আসছিলাম প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সম্পর্কে হকারদের সঙ্গে কথা বলতে। তাদের বলতে চেয়েছিলাম, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য নির্দেশ আছে, আপনাদের বসানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হবে। এই কথা বলার জন্য আসছিলাম। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্দেশে তার সমর্থকরা কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
হকার্স মার্কেটও নির্মাণ করে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। কিন্তু হকাররা মেয়রের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালে তাদের সমর্থন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। গত ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি নগরীর জিমখানা উন্মুক্ত মঞ্চে ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ও নগরবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষে জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী বিভিন্ন ইস্যুর সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। সেদিন তিনি শামীম ওসমানকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, ‘চার হাজার হকারের জন্য নগরীর পাঁচ লাখ মানুষ জিম্মি থাকতে পারে না। ফুটপাতে নগরবাসী চলাচল করবে। সিটি করপোরেশনের জরিপ অনুযায়ী হকার সংখ্যা মাত্র ৬শ’। কিন্তু,হকারদের দাবি চার হাজার। আর সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বক্তব্য অনুযায়ী হকারের সংখ্যা ১০ হাজার । তিনি এত হকার কোথায় পেলেন আমি তা জানি না। আমি হকারদের পেটে লাথি মারি নাই। বাংলাদেশে আমিই প্রথম হকারদের পুনর্বাসনের জন্য হকার্স মার্কেট নির্মাণ করে দিয়েছি। হকাররা সেই দোকান ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা দামে বিক্রি করে আবার রাস্তায় নেমে এসেছে। শামীম ওসমান সাহেবের যদি হকারদের জন্য এতোই মায়া কান্না থাকে তবে তিনি হকারদের জন্য দুই একটি মার্কেট নির্মাণ করে দিলেই পারেন। যিনি ছেলের বিয়েতে ২৫ কোটি টাকা খরচ করতে পারেন তার জন্য গরিব হকারদের জন্য দুই চারটি মার্কেট নির্মাণ করে দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।’

