ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর (৬ মার্চ) পূর্তি আজ। স্বজনরা অভিযোগ করেন, ত্বকী হত্যার চার্জশিট কবে হবে তার সঠিক কোন উত্তর মিলছে না তদন্তকারী সংস্থার কাছে? নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কোন অদৃশ্য সুতার টানে থমকে আছে অভিযোগপত্র দাখিলের কাজ। তাদের দাবি সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয় না। দীর্ঘ ১৩ বছরেও চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও নগরবাসির। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছরের অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য ১০২ বার সময় নেয় র্যাব। কিন্তু জমা হয়নি অভিযোগপত্র।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা কুমুদিনি খাল থেকে উদ্ধার করা হয় ত্বকী মরদেহ। নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি অজ্ঞাত আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুপার সাথে দেখা করে শামীম ওসমান, ছেলে অয়ন ওসমান, তার ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ কয়েকজনের নামের তালিকা তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে দাখিল করেন। ওই সময় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শওকত সুলতান ভ্রোমর, সালেহ রহমান সীমান্ত, মামুন মিয়া, তাহের উদ্দিন জ্যাকি, ইউসুফ হোসেন লিটনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে শওকত সুলতানর ভ্রোমর ১৬৪ ধারায় হত্যায় কারা কারা জড়িত ছিলো তাদের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে পরে বাদি আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যা পিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন টিম র্যা ব।
ত্বকী হত্যা মামলার আইনজীবী এ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু সাংবাদিকদের জানান, এ যেন বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। মামলা বাদি বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু তদন্ত সংস্থা র্যা ব মামলার তদন্ত শেষ করতে না পেরে আদালত থেকে ১০২ বার সময় নিয়েছে। তিনি বলেন, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জে এক জনসভায় এসে ত্বকী হত্যার বিচারে দাবি করেছিলেন। কারণ খালেদা জিয়া ত্বকীর বাবার কান্না হৃদয়ে ধারণ করে বিচার চেয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি যদি তার মায়ের হৃদয়ের কান্নার কথা ভেবে এ হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। তবেই এই মামলাটি দ্রুত চার্জশিট প্রদান করে বিচার শুরু হতে পারে।
মামলার বাদি নিহতের ত্বকীর বাবা সন্ত্রাস নিমূল ত্বকী মঞ্চ আহবায়ক রফিউর রাব্বি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ওসমান পরিবার। তাদের কাছে বিপুল অবৈধ টাকা আছে। তিনি অভিযোগ করেন, সন্দেহ করছি তাদের টাকার জোরেই অভিযোগপত্র আটকে আছে। কারণ, শত অন্যায় করে শামীম ওসমান কিভাবে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিদেশের মাটিতে বীর পদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবৈধ টাকার জোরেই সে পালাতে পেরেছে। তিন বলেন, বিগত সাড়ে এগারো বছর আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে আটকে ছিলো তদন্ত ও বিচার। অন্তবর্তীকালীন সরকার তিনজন উপদেষ্টা বলেছিলো, ত্বকি হত্যার বিচার করা হবে। সেই সময় কিছুটা তৎপরতা ছিলো। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একজন ত্বকি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। কিন্তু অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১৭ মাসে আলোর মুখ দেখেনি অভিযোগপত্র।
দীর্ঘ ১৩ বছরে ত্বকী হত্যার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুশীল সমাজ ও সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধিরা। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিন, তদন্ত সংস্থার গাফিলতি ও সদিচ্ছিার অভাবেই আটকে আছে অভিযোগপত্র। তবে এ হত্যা মামলার বিচারের দাবিতে আমার রাজপথে সক্রিয় আছি। বিচারের শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার প্রতিশ্রুতি তাদের।
আদালত সূত্রে জানাজায়, ত্বকী হত্যার আসামি আজমেরী ওসমানের ড্রাইভার বর্তমানে কারাগারে আটক আছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় শওকত সুলতান ভ্রোমর, সীমান্ত প্রধান পলাতক রয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। রিফাত বিন ওসমান, মামুন মিয়া, তাহের উদ্দিন জ্যাকি, ইউসুফ হোসেন লিটন, কাজল হাওলাদার, সাফায়াত হোসেন শিপন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ।

