ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে সিয়াম সাধনা পালন করেন। তবে ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি রোজার রয়েছে শারীরিক ও মানসিক নানা উপকারিতা—এমনটাই বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শারীরিক উপকারিতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে বিপাকক্রিয়ার (মেটাবলিজম) কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। এতে অতিরিক্ত চর্বি ও ফ্যাট কমতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ নির্গমনের প্রক্রিয়াও সক্রিয় হয়।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ইফতার ও সেহরিতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে রমজান মাসকে ওজন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর সময় হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব। নিয়মিত রোজা উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, পেট দীর্ঘসময় খালি থাকায় হজমের অ্যাসিড নিঃসরণ কম হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে হজমজনিত অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—যদিও এ ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অতিভোজনের অভ্যাস কমাতে এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে রোজা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। সংযমের চর্চা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত করে তোলে।
মানসিক উপকারিতা
রোজা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে রোজা পালন মানুষের মধ্যে আত্মিক প্রশান্তি সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধ্যান, প্রার্থনা ও সংযমের মতো চর্চা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, নিয়মিত আত্মসংযমের অভ্যাস আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ায় এবং আচরণগত স্থিতি উন্নত করে। দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ আত্মপর্যালোচনা, মূল্যবোধের চর্চা এবং ইতিবাচক জীবনদর্শন গড়ে তোলার সুযোগ পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিভোজন ও অলস জীবনযাপন শারীরিক ও মানসিক শক্তিকে ক্ষয় করে। রোজা সেই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি কার্যকর অনুশীলন হতে পারে।

