কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের সামরিক শক্তির অন্যতম ভরসা যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অংশ হিসেবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।
তবে সেই সম্পর্কে এবার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের শেষেই ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরুর দিন ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে, চলতি বছরের শেষেই এই সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। ইসরায়েলের এই অর্থের প্রয়োজন নেই।
তবে, সামরিক সহায়তা বন্ধ হলেও দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকতে পারে বলে দাবি ট্রাম্পের।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সায়েদের মতো রাজনীতিকেরা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তাদের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের এত অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন কী।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজেই সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে, এর আগে নেতানিয়াহু আগামী ১০ বছরে ধীরে ধীরে মার্কিন সামরিক সহায়তা কমানোর প্রস্তাব করেছিলেন।
ট্রাম্পের ঘোষণা কার্যকর হলে নির্ধারিত ১০ বছরের সময়সীমার অনেক আগেই এই সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরায়েলের কর্মকর্তারাও বিস্মিত হয়েছেন। দেশটির বিরোধী নেতাদের মতে, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এরপর বিরোধী নেতারা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন জোট সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের পরিবর্তনের খবর ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে হচ্ছে।
এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের আগেই অবহিত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়ার গোলান বলেছেন, একজন দায়িত্বশীল প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু, সেই সহায়তা বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করেছেন নেতানিয়াহু।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়েছে ইসরায়েল। এই অর্থ দিয়ে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনে দেশটি।
এছাড়া, দুই দেশের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য আরও ৫০ কোটি ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

