নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় জহির ফকির (৪৫) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ ইউনিয়নে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জহির ফকির কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে নিজের ফার্মেসি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে জহির ফকিরের পথ আটকায় ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। পরে তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “কালাপাহাড়িয়া এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আমার মামার দ্বন্দ্ব ছিল। মামা আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় পরিকল্পিতভাবে এই হত্যা করা হয়েছে।” এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, “জহির আমাদের দলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তার বাড়ি কালাপাহাড়িয়ায় হলেও তিনি মুন্সিগঞ্জে বসবাস করতেন। হঠাৎ খবর পেলাম ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ তাকে হত্যা করেছে। তিনি প্রায়ই আমাকে বলতেন যে তাকে মেরে ফেলা হবে। কিন্তু কার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল, তা নিশ্চিত হতে পারিনি। এমন খবরে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।” হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিক। তিনি বলেন, “নিহত যুবদল নেতার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে। দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে যায়। স্থানীয়রা তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

