নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদের আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশার নাম আলোচনায় আসায় চাচা-ভাতিজার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বন্দরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ আতাউর রহমান মুকুল। অতীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি দুই দফায় উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে আবুল কাউসার আশা বর্তমানে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁদের সম্ভাব্য অবস্থান শুধু পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্ব, সাংগঠনিক প্রভাব এবং ভোটের হিসাব-নিকাশও।
বন্দর উপজেলা পরিষদের রাজনীতিতে আতাউর রহমান মুকুলের অতীত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে রয়েছে নানা আলোচনা। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দুই মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে বিতর্কও ছিল। বিভিন্ন সময়ে ওসমান পরিবারের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ওই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হন মুকুল। কিন্তু ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ হোসেন ১৯ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মুকুলসহ অন্য প্রার্থীরা পরাজিত হন।
এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপির সরকার গঠনের পর বন্দর উপজেলা পরিষদের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। মুকুলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব কর্মী-সমর্থক রয়েছে। অন্যদিকে আবুল কাউসার আশার সামনে রয়েছে সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক বলয়, দলীয় সাংগঠনিক পরিচিতি এবং সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন ঘিরে গড়ে ওঠা সমর্থন। আশা ২০২৬ সালের ৭ মার্চ আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পান।
আতাউর রহমান মুকুল ও আবুল কালামের পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মুকুল আবুল কালামের চাচাতো ভাই। অতীতে আবুল কালামের রাজনৈতিক অবস্থান ও সমর্থন মুকুলের রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। একইভাবে আশার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও একসময় মুকুলকে পাশে দেখা গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দুই পক্ষের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসে বলে ২০২৬ সালে এসে মুকুল ও আশাকে ঘিরে নতুন করে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের আলোচনা সামনে এসেছে। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁদের অবস্থান কী হয়, তা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আবুল কাউসার আশাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান এমন আলোচনা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে রয়েছে ।
সব মিলিয়ে, বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চাচা-ভাতিজার লড়াই এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আতাউর রহমান মুকুল নিজে প্রার্থী হবেন কি না, আবুল কাউসার আশা নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এবং বিএনপি কাকে সমর্থন দেবে এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বন্দরের নির্বাচনী রাজনীতির পরবর্তী গতিপথ।

