১৯৭৩ থেকে শুরু, এই ৫৩ বছরে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। তিনবারই জিতেছে সিঙ্গাপুর, দুবার ম্যাচ ড্র। সর্বশেষ দেখায়ও জয়ের হাসি হেসেছে সিঙ্গাপুরই; গত মার্চে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে। নিজেদের মাঠে সেই হারের স্মৃতি এখনো টাটকা বাংলাদেশের জন্য।
এর মধ্যেই আসিয়ান কাপের ম্যাচে আজ আবারও বাংলাদেশের সামনে সিঙ্গাপুর। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়। মঞ্চ ভিন্ন হলেও এই ম্যাচে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হারের জবাব দিতে প্রস্তুত জামাল–হামজারা। র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের পার্থক্য ৩৪ ধাপ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হেরে ১৮১ থেকে ১৮২তে নেমে গেছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর আছে ১৪৮ নম্বরে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানকে গুরুত্ব দিতে চান না বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি। তাঁর কাছে জয়ই এখন শেষ কথা।

সিঙ্গাপুরের সঙ্গে র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানকে গুরুত্ব দিতে চান না বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি।বাফুফে
ম্যাচের আগে জাকার্তায় গতকাল সাংবাদিকদের সে কথাই বলেছেন কোচ, ‘আমাদের ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন ভাবধারা নিয়েই খেলতে হবে। র্যাঙ্কিংয়ে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে, এটা দেখার আর সুযোগ নেই। আমরা ম্যাচটা জিততে চাই। এ নিয়ে আর কোনো কথা নয়।’ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩–০ গোলের হারে একটু বেশিই হতাশ বাংলাদেশ কোচ। সেই ম্যাচের ভুলগুলোও হয়তো মনের মধ্যে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাই একটু সাবধান বার্তাই যেন দিতে চাইলেন কোচ, তবে সেটা আক্রমণাত্মক ফুটবলের ভাষায়, ‘আমাদের আরও আগ্রাসী হতে হবে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী মেজাজের ফুটবল খেলতে হবে। তাদের বেশি সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
জেতার জন্য খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন ডুলি। মালয়েশিয়া ম্যাচে বাংলাদেশ অতিমাত্রায় লং বলের ব্যবহার করেছে, যেটি পছন্দ হয়নি কোচের। আজকের ম্যাচে তাই সেটি বদলাতে চান তিনি, ‘আমরা গত ম্যাচে শুধু লং বল খেলেছি। আমি তো এটা খেলাতে চাইনি! এই ধরনটা বদলাতে হবে।’

জেতার জন্য খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন ডুলি।বাফুফে
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশ জিততে কতটা মরিয়া, সেটি বোঝা যাচ্ছে ডুলির এই কথাতেই। ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি ম্যাচই নয়, নিজেদের নতুন করে চেনানোর চ্যালেঞ্জও। মিডফিল্ডার শমিত সোমের কণ্ঠে আবার প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাই বেশি ফুটে উঠেছে।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচেই এক গোলের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। যদিও দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের জন্য ভালো সময় এসেছিল বলে মনে করেন এই মিডফিল্ডার। অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ফলটাও বদলাতে চান শমিত, ‘ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। এর আগে তাদের সঙ্গে কাছাকাছি গিয়ে হেরেছি। এবার আমরা সেই হারগুলোর প্রতিশোধ চাই। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আমাদের মধ্যে যে শক্তি, রাগ ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, সেটাকেই সিঙ্গাপুর ম্যাচে কাজে লাগাতে চাই।’ অবশ্য প্রতিশোধের আবেগের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানও দেখাচ্ছেন শমিত, ‘তারা খুব ভালো দল, তাদের সম্মান করতে হবে। তারা আমাদের দুবার হারিয়েছে। তবে তাদের বিপক্ষে আমাদেরও ভালো কিছু মুহূর্ত ছিল এবং আমরা আরও ভালো ফল পেতে পারতাম।’
নিজেদের ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ হয়ে আসা এই ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন আনতে পারেন ডুলি। আগের ম্যাচে সেন্টারব্যাকে একাধিক ভুল করা শাকিল আহাদকে শুরুর একাদশে নাও দেখা যেতে পারে। তাঁর জায়গায় খেলতে পারেন জিদান ইউসুফ। আক্রমণভাগেও আসতে পারে পরিবর্তন। মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ফারহান আলীকে খেলানোর সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে দুই উইংয়ে থাকবেন রাকিব হোসেন ও শুকি ইতোফুসাই। মালয়েশিয়া ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা শেখ মোরছালিনও আজ শুরু থেকেই খেলতে পারেন। গোলপোস্টের নিচে ফিরতে পারেন মিতুল মারমা। বাংলাদেশের সামনে আজ মূলত দুটি চ্যালেঞ্জ—ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং আগের হারের জবাব দেওয়া। ডুলি চান, মাঠে আগ্রাসী ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে দেখতে। শমিত চান, মালয়েশিয়া ম্যাচের রাগ-আবেগকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপ দিতে।
প্রতিশোধের আগুনে বাংলাদেশ কি বদলাবে, নাকি জাকার্তায়ও পুরোনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি হবে?

