নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর কর্মীদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সাল মোল্লাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার ‘সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে’ সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সালকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ১ আগস্ট সকাল সোয়া ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপোর এটিএফ (এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল) ডেলিভারি পয়েন্টে একদল লোক প্রবেশ করে কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সাল মোল্লা ও তার সহযোগী সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ডিপোর ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মচারীকে চলে যেতে ও আগের কর্মীদের পুনর্বহালের দাবি জানান বলে অভিযোগ করা হয়। পরে মোবাইল ফোনেও ওই কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অন্য একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে ওই ব্যক্তিরা ডিপোর অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। ওই প্রতিবেদনে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
ডিপোটি রাষ্ট্রের ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই হওয়ায় এমন অনুপ্রবেশ ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ডিপোর কর্মীদের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১ আগস্ট তিনি অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে গোদনাইল ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে প্রবেশ করেন এবং সেখানে কর্মীদের কাছে ওই অর্থ দাবি করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদার টাকা না দিলে ডিপোর কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি এবং কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে।
তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এগুলোকে মামলার অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তার অনুমোদনেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক দলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। তখন তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের মার্চে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বাগপাড়া এলাকায় তার বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় তার রাজনৈতিক সহযোগীকে মারধরের পর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। তবে ওই মামলার প্রধান আসামি অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো ফয়সালের লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন।
ফলে পদ্মা অয়েল ডিপোর ঘটনায় চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সময়ে কৃষক দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

