নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণে সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে আগের প্রস্তাবে থাকা কাশীপুর ইউনিয়নকে সর্বশেষ প্রতিবেদনে নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ মতামত জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ এবং সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই ও ১১ আগস্ট সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়।
পরিদর্শন কমিটি সরেজমিনে প্রস্তাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে। একই সঙ্গে ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
গণশুনানি ও পরিদর্শন কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন বিধিমালার ৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রতিবেদনে এসব এলাকার জনসংখ্যা, মানুষের পেশা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা এবং স্থানীয় জনমতের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার উপযোগী বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।
তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে কাশীপুর ইউনিয়নের কোনো অংশ নাসিকের সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়নি। এ বিষয়টি আগের প্রস্তাবের সঙ্গে নতুন প্রতিবেদনের বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করেছে।
এর আগে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই গণবিজ্ঞপ্তিতে কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল।
এ ছাড়া ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ, কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ নাসিকের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
গত ৭ জুলাই সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আপত্তি, পরামর্শ ও মতামত জানানোর আহ্বান জানান। পরে গণশুনানি ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এলাকাগুলোর বিষয়ে মতামত সংগ্রহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতামত ও পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে আগের প্রস্তাবের পরিবর্তে ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকের আওতায় আনার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের প্রস্তাবে থাকা কাশীপুর ইউনিয়ন এবার পুরোপুরি বাদ পড়েছে।
জেলা প্রশাসনের এই প্রতিবেদনটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া।

