নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১২ বছরের ভাতিজা রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি এবং হত্যার দায়ে চাচা মাসুম বিল্লাহকে (২৯) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক একেএম রকিবুল হাসান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুম বিল্লাহ পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার বলদিয়া এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ রূপসী এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত রিফাত হোসেন একই এলাকার রাসেল মোল্লার ছেলে। রিফাত তার মা ও দুই বোনের সঙ্গে দক্ষিণ রূপসীর একটি ভাড়া বাসায় থাকত এবং স্থানীয় কাজী মহিউদ্দিন মডেল হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ রমজান মাসে রিফাত রোজা রেখে জোহরের নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হয়। এ সময় তার চাচা মাসুম বিল্লাহ তাকে অপহরণ করেন। পরে শিশুটির পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে রিফাতের মা মুক্তিপণ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এরপর রিফাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। ওইদিন রাতে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলে রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার মা সুফিয়া আক্তার।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। হত্যাকাণ্ডের পর মাসুম বিল্লাহ তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে চলে যান। পরে সেখানে নেছারাবাদ থানায় গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মাসুম বিল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

