নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার অবসান হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরই ধারাবাহিকতায় ওইদিন সন্ধ্যায় তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরের ইসদাইর এলাকার শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ও মালামাল ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এ সময় ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্যেষ্ঠ নেতাদের উদ্যোগে মঙ্গলবার রাতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের দুটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ সময় বিএনপি নেতারা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
আলোচনার একপর্যায়ে মহানগরের সাবেক ছাত্রদল নেতা আজিজুল ইসলাম রাজীব এবং মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে বিরোধের অবসানের ঘোষণা দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ বিএনপি ও জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যস্থতায় সমঝোতার মাধ্যমে তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ আপাতত মিটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

