ইরানের হামলার আশঙ্কায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার সময় এক অভিনব ও গোপন কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক থেকে রওনা দেওয়ার সময় ট্রাম্প সবার সামনেই এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠেন। কিন্তু বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই তাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে একটি খাবার সরবরাহের ট্রাকের (ক্যাটারিং ট্রাক) ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে গোপন একটি ছোট সামরিক বিমানে (এয়ার ফোর্স সি-৩২এ) তুলে নেওয়া হয়।
ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইরান থেকে আসা একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণে এই কাজ করতে বাধ্য হয় মার্কিন গোয়েন্দারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ট্রাম্প জানান, পুরো সিদ্ধান্তটি সিক্রেট সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীর নেওয়া এবং তিনি কেবল তাদের নির্দেশ মেনে চলেছেন। ওহাইও সফর শেষে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই সিক্রেট সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ করেছে। তারা যা করতে বলে, আমি কেবল সেটাই মেনে চলি। সামরিক বাহিনী ও সিক্রেট সার্ভিস চেয়েছিল আমি যেন ভিন্ন একটি বিমানে যাত্রা করি। দুটি বিমানই সমান নিরাপদ ছিল, কিন্তু তারা সুরক্ষার তাগিদে অন্যটিতে যেতে বলেছিল, তাই আমি গিয়েছি।’
হুমকির ধরন বা তীব্রতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের কাছে বিস্তারিত কিছু জানতে চাইনি। কারণ আমাকে প্রায়ই নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয়।’
নিজেকে একজন ‘প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট’ দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাকে ঘিরে এমন অনেক হুমকি আসে যা আপনারা জানতেও পারেন না। যে কোনো প্রভাবশালী প্রেসিডেন্টকেই এমন হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। যেসব প্রেসিডেন্ট প্রভাবশালী নন, তাদের কেউ হুমকি দেয় না। আমার মনে হয় বিগত প্রায় ছয় বছরে আমি যতটা কাজ করেছি, তা আর কেউ করতে পারেনি।’
তবে এসব হুমকি তাকে কোনোভাবে বিচলিত করে না জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নই। আমার মনোভাব বরাবরই স্পষ্ট— যা হওয়ার হবে।’
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আসল ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে ছিলেন এয়ার ফোর্স ওয়ানের আলাদা অংশে অবস্থানরত অন্তত ডজনখানেক সাংবাদিক। ইরানের সম্ভাব্য হুমকি থাকা সত্ত্বেও মূল বিমানে করেই তুরস্ক ত্যাগ করেন তারা।

