নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকার ডিশ লাইন ক্যাবল ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার গ্রেপ্তার আসামি শরীফকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীরা হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরীফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাইফুল ইসলাম ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানির জন্য কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেওয়ার পথে নিহত নাছির উদ্দিনের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন আসামি শরীফকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে আদালতের প্রবেশমুখে শরীফ পড়ে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও উপস্থিত আইনজীবীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাকে উদ্ধার করেন এবং নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে নিয়ে যান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আদালত প্রাঙ্গণে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার সময় একটি পক্ষ হামলার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তার সঙ্গে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৪ মে দুপুরে ফতুল্লার চাঁদমারী মাউরাপট্টি এলাকায় নিজ প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’-এর ভেতরে ডিশ লাইন ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন (৬০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ বিভিন্ন সময়ে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া আসামি শরীফকে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

