ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ। টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় যাত্রীদের ব্যাপক চাপ দেখা গেছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, হাজীগঞ্জগামী বাস কাউন্টারগুলোতে ভোর থেকেই ক্রমশ: যাত্রী জড়ো হতে থাকে। দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে যাত্রীদের চাপ।
তবে যাত্রীচাপ বাড়লেও দিনভর ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। কোথাও কোথাও ধীরগতির যান চলাচল থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল-এমন কথাই জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
বাস কাউন্টারের কর্মীরা জানায়, ভোর থেকে চিটাগাংরোড, শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকায় দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে আস্তে আস্তে যাত্রীরা আসা শুরু করে। একসময় যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। তৈরি হয় যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে অনেকে ভোর থেকেই কাউন্টারে এসে অপেক্ষা করতে থাকেন।
এদিকে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবহণগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়েও বাস না আসায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটের সোহাগ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারের ম্যারেচার মনির হোসেন বলেন, ভোর থেকে আস্তে আস্তে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কিন্তু দুপুরে বৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী কিছু কমে যায়। এ মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট না থাকলেও গাড়ির চাপের কারণে মৃদু যানজট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চাঁদপুরের যাত্রী বুলবুল হোসেন জানান, তিনি সকাল থেকে পদ্মা পরিবহণের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস পাননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কাউন্টারে বসে আছি, এখনো গাড়ি আসেনি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ টাকা, এখন সেটাই ৪৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে। ঈদের সময় মানুষ পরিবারের কাছে যেতে চায়, সেই সুযোগে কিছু পরিবহণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে জানান তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন যাত্রী।
নোয়াখালী জেলার মাইজদী এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু নামের এক যাত্রী জানায়, সকালে বের হওয়ায় দ্রুত বাস পেয়েছি। তবে ভাড়া আগের চেয়ে অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। তারপরও মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই যাচ্ছে।
এদিকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে তুলনামূলক যাত্রীচাপ কম দেখা গেছে। এ রুটে কয়েকজন কাউন্টার কর্মী বলেন, এখন পর্যন্ত সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চাপ কম রয়েছে। পর্যাপ্ত গাড়ি রয়েছে। কিছুক্ষণ আগে দুটি গাড়ি কয়েকটি সিট খালি নিয়েই ছেড়ে গেছে। তবে আগামীকাল থেকে যাত্রীর চাপ অনেক বাড়বে।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, মৌচাক, মাদানীনগর মাদ্রাসা, চিগাটাংরোড ও কাঁচপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ অবস্থান, নজরদারি।
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শিমরাইল, চিটাগাং রোড, কাঁচপুর ও তারাবো এলাকায় ৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

