ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২) নামে এক ঠিকাদারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই এলাকার তিনজনকে অভিযুক্ত করেছে নিহতের পরিবার। তারা হলেন গঙ্গানগর এলাকার আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে হৃদয় ও শুভ।
রোববার (১৭ মে) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুদ্দিনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৪ মে বিকেলে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
নিহত নুরুদ্দিন ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালেরহাট গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নিউটাউন আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার জানান, প্রায় দুই বছর আগে আব্দুর রবের বাড়ির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করেছিলেন তার স্বামী। কাজ শেষ হলেও পাওনা টাকা পরিশোধ না করে বরং আরও কাজ করার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহতের ভাই মিজান রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে মোটরসাইকেলে এসে নুরুদ্দিনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে বাড়ির সামনে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হৃদয় তার কাছে থাকা সুইচ গিয়ার দিয়ে নুরুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তার বুকের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
পরে স্বজনরা আহত নুরুদ্দিনকে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার জানান, নির্মাণকাজ সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতের পর নুরুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

