ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর নারায়ণগঞ্জের চারটি ডিপো থেকে সরবরাহ বাড়ানো হলেও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নির্ধারিত রেশনিং পদ্ধতিই বহাল রয়েছে।
প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিপোগুলো থেকে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ডিপোগুলোর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা ডিপোতে মূল্য বৃদ্ধির আগে যেখানে দৈনিক অকটেন সরবরাহ ছিল ২ লাখ লিটারের কিছু বেশি, তা এখন বেড়ে ৩ লাখ লিটারেরও বেশি হয়েছে। একইভাবে পেট্রোল সরবরাহ ৪০-৫০ হাজার লিটার থেকে বেড়ে লক্ষাধিক লিটারে পৌঁছেছে। ডিজেল সরবরাহও ১১-১২ লাখ লিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ১২ লাখ লিটার ছাড়িয়েছে।
গোদনাইলের মেঘনা ডিপোতেও সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগে যেখানে অকটেন সরবরাহ ছিল প্রায় ১ লাখ লিটার, বর্তমানে তা বেড়ে ১ লাখ ২৮ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোল সরবরাহ ৪০-৫০ হাজার লিটার থেকে বেড়ে ৫৭ হাজার লিটার বা তার বেশি হয়েছে। ডিজেল সরবরাহ ১০ লাখ লিটার থেকে বেড়ে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ লিটারে উন্নীত হয়েছে।
অন্যদিকে ফতুল্লার যমুনা ডিপোতে অকটেন সরবরাহ বেড়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার লিটারে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল লক্ষাধিক লিটারের মধ্যে। পেট্রোল সরবরাহ ৩০-৪০ হাজার লিটার থেকে বেড়ে ৫০ হাজার লিটারের বেশি হয়েছে। ডিজেল সরবরাহও ৫-৬ লাখ লিটার থেকে বেড়ে ৮ লাখ লিটারের ওপরে উঠেছে।
ফতুল্লার মেঘনা ডিপোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। আগে যেখানে অকটেন সরবরাহ ছিল অর্ধলক্ষাধিক লিটার, এখন তা বেড়ে লক্ষাধিক লিটারে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোল সরবরাহ ১৫-২০ হাজার লিটার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার লিটারের বেশি হয়েছে এবং ডিজেল সরবরাহ ৩-৪ লাখ লিটার থেকে বেড়ে ৭ লাখ লিটারের ওপরে উঠেছে।
তবে সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ফিলিং স্টেশন মালিক ও শিল্পকারখানার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দাম বাড়ানোর পর সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও রেশনিং পদ্ধতির কারণে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে।
তারা দ্রুত রেশনিং পদ্ধতি বাতিল করে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

