ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে সাধারণত একপেশে ফল কমই দেখা যায়। কিন্তু এবার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। কয়েকটি ম্যাচে হারের ব্যবধান এত বড় যে নাটকীয় কোনো প্রত্যাবর্তন না ঘটলে বেশ কয়েকটি দ্বৈরথের ভাগ্য বলা যায় আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার ও বুধবারের ম্যাচগুলো মিলিয়ে শেষ ষোলোর প্রথম লেগের আটটি ম্যাচের মধ্যে অন্তত পাঁচটিতেই গোলের ব্যবধান তিন বা তার বেশি। বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর কেউ কেউ হয়তো আগামী সপ্তাহে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা রাখছে। তবে অনেকেরই ধারণা হচ্ছে, ওই পাঁচটি দ্বৈরথের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার আতলেতিকো মাদ্রিদ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট ম্যাচে পাঁচ গোল করে টটেনহামকে (৫–২) হারায়। একই রাতে আতালান্তা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে, ঘরের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে যায় ৬–১ গোলে। গত বুধবার চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জয়–পরাজয়ের ব্যবধান ছিল তিন গোলের। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ম্যানচেস্টার সিটি হেরেছে ৩–০ গোল, একই ব্যবধানে বোডো/গ্লিমট হারায় স্পোর্তিং লিসবনকে আর পিএসজির বিপক্ষে চেলসির হার ৫–২ গোলের। শুরুতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটা একবার দেখে নেওয়া যাক। কারণ, বাস্তবতা যতই কঠিন হোক না কেন, ইতিহাসে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ ঠিকই থাকে। যেমন বাস্তবতা বলছে টটেনহামের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, তাদের বর্তমান ফর্ম খুবই খারাপ।
গত মঙ্গলবারের হার দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ হেরেছে তারা, যা ক্লাব ইতিহাসে প্রথম। ফলে পরের লেগে তাদের ঘুঁরে দাঁড়িয়ে ৩ গোলের ব্যবধান ঘোচানো বেশ কঠিন। অন্যদিকে একই ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি কিংবা স্পোর্তিং লিসবনের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত মনে করা হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে চার দলেরই সামনে একই রকম কঠিন চ্যালেঞ্জ, টপকাতে হবে বিশাল এক পাহাড়। চ্যাম্পিয়নস লিগে অতীতের নকআউট পর্বে ফিরে তাকালে চারটি উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে। সেই ম্যাচগুলো ছিল ২০০৩–০৪ মৌসুমে এসি মিলানের বিপক্ষে দেপোর্তিভো লা করুনা, ২০১৬–১৭ মৌসুমে পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনা, ২০১৭–১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে রোমা এবং ২০১৮–১৯ মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে লিভারপুলের।
এর মধ্যে ২০১৬–১৭ মৌসুমে পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনার প্রত্যাবর্তনটিই সবচেয়ে বড় চমক হয়ে আছে। শেষ ষোলো প্রথম লেগে ৪–০ গোলে হেরে যাওয়ার পর ফিরতি লেগে ৬–১ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে বার্সা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে নকআউটে প্রথম লেগে চার গোল পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র নজির এটিই।

সেটা ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দ্বৈরথ। উনাই এমেরির পিএসজি প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে (৪–০) একরকম উড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে ফিরতি লেগে কাতালানদের সামনে কঠিন সমীকরণ দাঁড়ায়। তবে লিওনেল মেসি–নেইমাররা সেবার অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৬–৫ গোলে জিতে বাজিমাত করেছিল বার্সা।
২০০৩–০৪ মৌসুমের পর সেটিই ছিল প্রথমবার, যখন কোনো দল প্রথম লেগে তিন বা বেশি গোলের ব্যবধান পুষিয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। যে কীর্তির সূচনা করেছিল দেপোর্তিভো লা করুনা। সান সিরোয় কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম লেগে এসি মিলানের কাছে ৪–১ গোলে হেরেছিল তারা। কিন্তু ফিরতি লেগে ৪–০ গোলে জিতে পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে।
দেপোর্তিভো লা করুনার কীর্তির পর এমন ঘটনা দেখতে অপেক্ষা করতে হয় আরও ১৩ বছর। সেটা সেই বার্সা–পিএসজি ম্যাচের কল্যাণে। তবে গত কয়েক বছরে এমন দৃষ্টান্ত একাধিকবার দেখা গেছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তিন গোলে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছিল এএস রোমা ও লিভারপুল। দুবারই ট্র্যাজেডির শিকার হওয়া দলটির নাম বার্সেলোনা।
২০১৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগে ক্যাম্প ন্যুতে এএস রোমার বিপক্ষে বার্সেলোনার ৪–১ গোলের জয়ের পর বার্সার সেমিফাইনাল মনে হচ্ছিল হাতছোঁয়া দূরত্বে। কিন্তু ফিরতি লেগে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রোমা। ৩–০ গোলে জিতে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে চলে যায় সেমিফাইনালে।

