ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের সামনে এই ড্রোনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে জানানো হয়, ইরানের এই আক্রমণাত্মক ড্রোনগুলো এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন যে, শাহেদ ড্রোনের হুমকি ধারণার চেয়েও বেশি গুরুতর। এসব ড্রোন খুব নিচু উচ্চতায় এবং ধীরগতিতে উড়তে পারে। ফলে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এগুলোকে শনাক্ত করা কঠিন এবং অনেক সময় রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়।
বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রেসিডেন্ট দিতে পারেননি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা ভূখণ্ডের ওপর সরাসরি কোনো হুমকি না থাকা সত্ত্বেও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ। তার দাবি, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ শুধু অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
এদিকে সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির সদস্য মার্ক কেলি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদের মজুদ সীমাহীন নয়। ইরান যেভাবে বিপুল সংখ্যক শাহেদ ড্রোন এবং বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চলতে থাকে, তাহলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ কতদিন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই রসদ সংকটের আশঙ্কা পেন্টাগনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অর্জন এবং মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন ফাত্তাহ–২ হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বিশ্বের প্রচলিত কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ১৭ দফা হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছোড়া হয়েছে তেল আবিব, আল-কুদসসহ কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে থাকা মার্কিন ঘাঁটির দিকে। এমনকি ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন এবং একটি ডেস্ট্রয়ারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

