ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ রমজান মাসকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামী বর্ণনায় বলা হয়েছে, এ মাসে রোজা পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। এ সময় বিশেষ কিছু মুহূর্ত রয়েছে যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর মধ্যে ইফতারের আগ মুহূর্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—পিতার দোয়া, রোজাদারের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া। (বাইহাকী ৩/৩৪৫; সিলসিলাহ সহীহাহ, হাদিস নং ১৭৯৭)
ইসলামী স্কলারদের মতে, রোজাদার ব্যক্তি সারাদিন ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করে থাকেন। এ অবস্থায় বিনয় ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়, যা দোয়া কবুলের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, ইফতারের সময় রোজাদারের জন্য এমন একটি দোয়া থাকে যা প্রত্যাখ্যান করা হয় না। (ইবনে মাজাহ, হাকিম)
তবে এই হাদিসটির মান নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আল্লামা আলবানী এটিকে সনদের দিক থেকে দুর্বল বলেছেন। অন্যদিকে ইমাম বূসীরী, ইবনে হাজার আসকালানী ও আহমদ শাকেরসহ কয়েকজন মুহাদ্দিস এটিকে সহীহ বা হাসান হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন।
সার্বিকভাবে আলেমদের অভিমত, হাদিসের মান নিয়ে মতভেদ থাকলেও সহীহ বর্ণনায় রোজাদারের দোয়া কবুল হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই রোজা অবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করা এবং বিশেষ করে ইফতারের আগের সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

