ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতকে আর সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের জুটিকে উড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তার পূর্ণতা দিতে পারলেন না আল আমিন জুমার-ঊর্মি আক্তার। ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্টের মিশ্র দ্বৈতের ফাইনালে মালয়েশিয়ার জুটির কাছে হেরেছেন তারা। পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে গতকাল সেরা হওয়ার লড়াইয়ে ইসাক আনিফ-ক্লারিসা জান জুটির কাছে ২-০ সেটে হারেন জুমার-ঊর্মি। প্রথম সেটে অবশ্য ছিল দারুণ কিছুর আভাস। প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে টাইব্রেকারে ২৭-২৫ পয়েন্টে হেরে যান জুমার-ঊর্মি। তবে দ্বিতীয় সেটে দাঁড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের এই দুই শাটলার। হেরেছেন ২১-১৪ পয়েন্টে। সোনা জয়ের স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি এসে না পারার হতাশা ফুটে উঠলো ঊর্মির কণ্ঠে। মালয়েশিয়ার জুটির বিপক্ষে দ্বিতীয় সেটে নিজেদের মেলে ধরতে না পারার কারণও খুঁজে পেয়েছেন তার পার্টনার জুমার। ফাইনালে উঠে সাফল্য না পাওয়ার পেছনে লম্বা সময় ধরে অনুশীলন করতে না পারাকে দূষলেন ঊর্মি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওরা আসলে দীর্ঘ সময় ধরে প্র্যাকটিস করে, ভালো কোচের আন্ডারে থাকে এবং ওদের সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। ওদের স্পন্সর, ট্রেনিং সব কিছুই আমাদের চেয়ে ভালো। আমরা সারা বছর ট্রেনিংয়ের সুযোগ পাই না, এই গ্যাপটুকুই আমাদের পিছিয়ে রেখেছে।’ সাফ গেমসকে সামনে রেখে তিন মাস ধরে বাংলাদেশের শাটলারদের প্রশিক্ষণ দেন ইন্দোনেশিয়ান কোচ। ওই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে স্বাগতিকরা। ফাইনালে স্বর্ণ জিততে না পারলেও এ অর্জনে খুশি ঊর্মি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা অনেক সন্তুষ্ট, কারণ বাংলাদেশে এই প্রথম আমরা ইন্টারন্যাশনালে ফাইনালে উঠেছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, কিন্তু ফাইনালে খেলেছি এটাতেই আমরা খুশি।’ জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে জুমার-ঊর্মি জুটির। চাপমুক্ত হয়ে খেলার মানসিকতাই দু’জনকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে বলে জানান জুমার। তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই প্রেশার না নিয়ে রিল্যাক্সে আমাদের প্র্যাকটিস ম্যাচের মতো খেলার চেষ্টা করেছি।’ তবে সামনের দিনগুলোতে আরও সাফল্য পেতে ফেডারেশন থেকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার আশা করনে জুমার। তিনি বলেন, ‘এক বক্স শাটলের দাম এখন ৬০০০ টাকা, যা দিয়ে বড়জোর ২-৩ দিন প্র্যাকটিস করা যায়। এত এক্সপেনসিভ গেমে একা ট্রেনিং চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’ আগামীতে সাফল্য পাওয়ার পথটাও বলে দেন জুমারের সতীর্থ ঊর্মি। তিনি বলেন, ‘ফেডারেশন আমাদের জন্য চেষ্টা করছে। ইন্দোনেশিয়ান কোচও অনেক পরিশ্রম করেছে। উনার মতো কোচ যদি সারা বছর পাই, তবে আমরা নেক্সট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো।’
জুমার-ঊর্মি দারুণ পথচলা থামলো ফাইনালের হারে
You Might Also Like
Quick Link
Leave a Comment
Sunday, Oct 18, 2026
সর্বশেষ
Follow US
Find US on Social Medias

