নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় বিএনপির সাবেক দুই প্রভাবশালী নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও শিল্পপতি মো. শাহ আলম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এরপর থেকে দলীয় রাজনীতিতে তাদের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চললেও এখন নতুন করে দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শাহ আলম একসময় জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় দলটি।
বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মো. শাহ আলমকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থী ঘোষিত আসনগুলোতে দলের কোনো নেতা যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেন, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে দুই নেতা সেই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।
শাহ আলম নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪-এর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের বহিষ্কারের ঘোষণা আসে।
অর্থাৎ, তাদের বহিষ্কারের ঘোষিত কারণ ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া। বহিষ্কারের বিষয়টি কেবল স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছিল না, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।
গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার পেছনে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তাদের অতীত ভূমিকা ও অনুসারীদের প্রত্যাশা। গিয়াস উদ্দিন জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। শাহ আলমও জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তাদের ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের সাংগঠনিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তাদের অনুসারীদের মধ্যে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও দলীয় পদে পুনর্বহালের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, বহিষ্কারের পেছনে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছিল বিএনপি। দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ফলে তাদের প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে অতীতের সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমকে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার কথা উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের নিশ্চিত তথ্য ছাড়া তাদের প্রত্যাবর্তন চূড়ান্ত হয়েছে বলে বলা যাচ্ছে না।
তাদের অনুসারীদের মধ্যে তৎপরতা ও প্রত্যাশা বাড়লেও দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি তাদের অতীত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় দলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে, নাকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
সব মিলিয়ে, গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমের বিএনপিতে ফেরার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে তাদের বহিষ্কারের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ সামনে আসায়। তবে বহিষ্কারের কারণ যেমন ছিল দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া, তেমনি প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

