নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহন শ্রমিক সজীব হত্যা মামলার বিচার চাওয়ায় নিহতের মা ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষের লোকজন নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের মা শিরিনা আক্তার। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন শিরিনা আক্তার। এ সময় নিহত সজীবের স্ত্রী, স্কুলপড়ুয়া ছেলে ও বোন উপস্থিত ছিলেন।
শিরিনা আক্তারের অভিযোগ, ছেলে হত্যার বিচার চাওয়ায় তাঁকে, তাঁর আরেক ছেলে সজলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলার পলাতক আসামি ও গ্রেপ্তার আসামিদের স্বজনেরা এসব হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি তাঁর।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। বিচার পাওয়ার পরিবর্তে এখন নিজের ও পরিবারের সবার জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। থানায় জিডি করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো হুমকি আরও বেড়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাইকেলের পরিবারের সদস্য ও তাঁর সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
গ্রেপ্তারের ৪০ দিনেও জবানবন্দি না নেওয়ার অভিযোগ
শিরিনা আক্তার জানান, হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর মামলার প্রধান আসামি মাইকেল (৪৫) ও তাঁর ছেলে মো. আপনকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র্যাব। তবে গ্রেপ্তারের ৪০ দিন পার হলেও তাঁদের কাছ থেকে কোনো জবানবন্দি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলার অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন নিহতের স্বজনেরা।
মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় হত্যার অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা ক্যানেলপাড় এলাকায় নিজ বাসায় ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে নিহত হন পরিবহন শ্রমিক সজীব। তিনি মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মাইকেল, মো. আপন, মো. তাহসিন, মো. নুরুজ্জামান, মো. আকাশ ও মো. ইমনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬২।
এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে মাইকেল ও তাঁর ছেলে আপন গ্রেপ্তার হলেও অন্য আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
মাদক ব্যবসা বন্ধ ও দ্রুত বিচার দাবি স্থানীয়দের
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় এখনো মাদক ব্যবসা চলছে। তাঁরা সজীব হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের কথা বলছে পুলিশ
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘হত্যা মামলায় দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

