নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৬১টি পাসপোর্ট, ৫টি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ৬টি সিলসহ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ফতুল্লা মডেল থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকার কেএমএস টাওয়ারের চতুর্থ তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকার মৃত জয়নালের ছেলে রাশেদ (৪৩), ফতুল্লার ভূইগড় শান্তিধারা এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ তানহা (৩৯) এবং দক্ষিণ শিয়াচর এলাকার মোশারফ বেপারীর ছেলে মো. মহসিন বেপারী (৩২)।
পুলিশের তথ্যমতে, রাশেদের ভাড়া নেওয়া একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৬১টি পাসপোর্ট, ৫টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন দপ্তরের ৬টি সিল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা সিলগুলোর মধ্যে রয়েছে—চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা; পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ডিএসবি, নারায়ণগঞ্জ; নিকাহ রেজিস্ট্রার, চিটাগাং রোড, সিদ্ধিরগঞ্জ; সহকারী পরিচালক, ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ; নোটারি পাবলিক এবং ‘সত্যায়িত প্রতিলিপি’ লেখা সিল।
পুলিশের ধারণা, এসব পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও সরকারি সিল ব্যবহার করে চক্রটি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা কিংবা জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে এসব উপকরণ ব্যবহার করা হতো কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা বলেন, “নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিল জালিয়াতি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা। সাধারণ মানুষকে বিদেশ পাঠানোর নামে বা জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে তারা প্রতারণা করে আসছিল। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পিসিপিআর যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় প্রতারণার ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একই সঙ্গে প্রতারণা, জালিয়াতি ও সরকারি নথি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

