রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা নেতাকর্মীদের পাশে না থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখালেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলটির নেতাদের মাঠে পাওয়া যায় না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আবুল কালাম বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ক্ষমতার সময় এক ধরনের চেহারা এবং সংকটের সময় আরেক ধরনের চেহারা দেখা যায়। তার ভাষায়, সুসময় এলে নেতারা সামনে থাকলেও দুঃসময় শুরু হলে সাধারণ নেতাকর্মীদের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে তারা সরে যান।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জেলার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবারের নেতাদের বিভিন্ন সময় বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা গেলেও সংকটের মুহূর্তে তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি রূপক অর্থে বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তাদের ‘সিংহের মতো’ দেখা গেলেও প্রতিকূলতা তৈরি হলে ‘বিড়ালের মতো’ সরে যেতে দেখা যায়।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অতীতের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করার কৃতিত্ব তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা, গ্রেপ্তার, গুম ও হত্যার মতো নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাইয়ের গণআন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আবুল কালাম বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বরও একই ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর ডিআইটি মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে আবুল কালাম দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মহানগর বিএনপি এরই মধ্যে কয়েক দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করে। দলীয় প্রস্তুতি সভায় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়িয়ে চলা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোববারের সমাবেশে আবুল কালামের বক্তব্যে মূলত আওয়ামী লীগের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, সংকটকালে দলটির নেতাদের অবস্থান এবং বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। একই সঙ্গে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আরও সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

