দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে সংস্কারের মাধ্যমে আবারও খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নগরীর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্টেডিয়াম দুটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম।
ফতুল্লার শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে ক্রীড়া সচিব বলেন, একসময় স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে মাঠটি ধীরে ধীরে নিচু হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্যান্য অবকাঠামোও।
তিনি বলেন, স্টেডিয়ামটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছে। মাঠ ও অবকাঠামো পরীক্ষা করে সেটিকে পুনরায় খেলার উপযোগী করার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া সচিব জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্যোগে স্টেডিয়ামের আউটডোর অংশে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্টেডিয়ামের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব জমা পড়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
মাহবুব উল আলম বলেন, ‘আশা করছি, স্টেডিয়ামটির পূর্বের যে ঐতিহ্য ছিল, সেটি আবার ফিরিয়ে আনতে পারব। জেলা প্রশাসন, বিসিবি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এর আগে নগরীর ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন ক্রীড়া সচিব। সেখানে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। কিন্তু জেলার ক্রীড়া অবকাঠামোকে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এটিকে কীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা এটিকে একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
প্রস্তাবিত স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফুটবল, ক্রিকেট, ফুটসাল, ইনডোর গেমসসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জের অবস্থান ও যোগাযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ তৈরির কথাও জানান তিনি।
ক্রীড়া সচিব বলেন, ‘আমরা এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
এ সময় তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি উপজেলা ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। মেধা অন্বেষণ ও ট্যালেন্ট হান্টিংয়ের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

