নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চিপস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাত বছরের এক শিশুকে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে জহিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার কলকান্দি এলাকার মৃত কছিমউদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার পাগলা দেলপাড়া পেয়ারা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পরিবার ময়মনসিংহের তারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে দেলপাড়া পেয়ারা বাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। জহিরুলও একই বাড়ির মালিকের মালিকানাধীন পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। সেই সুবাদে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল। শিশুটি তাকে ‘আংকেল’ বলে ডাকত।
শিশুটির মা একটি ঝুট মিলে এবং বাবা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার দিন দুপুরে মা কর্মস্থলে ও বাবা রিকশা নিয়ে বাইরে ছিলেন। ওই সময় শিশুটি তার আরও চার ভাই-বোনের সঙ্গে বাসায় ছিল।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিকেল ৪টার দিকে শিশুটি বাসার গেটে দাঁড়িয়ে থাকার সময় জহিরুল চিপস দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের দোকানের দিকে ডেকে নেন। পরে তাকে দেলপাড়া পেয়ারা বাগান এলাকার একটি মিলের পাশে ওমর আলী মসজিদের পেছনে কলাগাছের ঝোপে নিয়ে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে জহিরুল তার মুখ চেপে ধরেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে জহিরুল সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির মা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে জহিরুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলার পর জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

