নারায়ণগঞ্জ নগরীতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ‘দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রতি শনিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির জন্য দেশের ছয়টি জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জকে পাইলট জেলা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আবাসিক এলাকা, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও খেলার মাঠসহ সব ধরনের জনপরিসর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মো. রায়হান কবির বলেন, এ কর্মসূচির মূল শক্তি হচ্ছে জনসচেতনতা ও স্বেচ্ছাশ্রম। তাই শিক্ষার্থী, যুবসমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও পরিষ্কার রাখলে ধীরে ধীরে পুরো নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রোববার থেকে সব সরকারি দপ্তর এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুধু সদর উপজেলাতেই শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫০ সদস্যের একটি করে ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হচ্ছে। এসব দল নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করবে।
এ ছাড়া বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলগুলো পরিষ্কার রাখতে পৃথক কমিটি ও কমিউনিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
মো. রায়হান কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে সাইনবোর্ড থেকে লিংক রোড পর্যন্ত এলাকা পরিচ্ছন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হবে এবং পরে তা পর্যায়ক্রমে সাইনবোর্ড পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।
তিনি বলেন, নগরীতে প্রবেশপথ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যাতে আর ময়লার স্তূপ না থাকে, সে জন্য নাসিকের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ করা হবে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে সম্পৃক্ত করেই একটি পরিচ্ছন্ন ও বসবাস-উপযোগী নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা হবে।
শব্দদূষণ নিয়েও জেলা প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধে বাস ও ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা এ ধরনের হর্ন ব্যবহার না করার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিফাত উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

