মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম ট্রুথ সোশ্যাল। এই মাধ্যম থেকে ট্রাম্পের পোস্ট দ্রুতগতিতে পাওয়ার সুবিধার জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ট্রেডার ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মাসিক ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (TMTG) সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তিন বছরের চুক্তির ক্ষেত্রে মাসিক ৬০ হাজার ডলারের ছাড়মূল্যের একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছে।
গত বৃহস্পতিবার TMTG ‘ট্রুথ এপিআই (Truth API)’ নামে একটি লাইসেন্সভিত্তিক ডেটা সেবা চালুর ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে ব্যাংক ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রুথ সোশ্যালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০টি অ্যাকাউন্টের পোস্ট সবচেয়ে দ্রুত পাওয়ার সুযোগ পাবে।
কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মূল্য প্রকাশ না করলেও এটি তাদের ডেটা লাইসেন্সিং ব্যবসায় প্রথম পদক্ষেপ এবং নতুন আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘোষণার পরই ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়ে TMTG। সিনেটের ফাইন্যান্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প পরিবারের আর্থিক লাভ হবে এবং ওয়াল স্ট্রিটের ট্রেডাররা আরও ধনী হবে।
অন্যদিকে সিনেট ব্যাংকিং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এলিজাবেথ ওয়ারেন একে প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার জঘন্য পরিকল্পনা বলে মন্তব্য করেছেন।
কেন এত মূল্যবান ট্রাম্পের পোস্ট?
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে নতুন শুল্ক (ট্যারিফ) ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চগতির (হাই-ফ্রিকোয়েন্সি) ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ড আগে তথ্য পাওয়াও বড় লেনদেনে লাখ লাখ ডলার অতিরিক্ত মুনাফা এনে দিতে পারে।
নিয়ন্ত্রক নথি অনুযায়ী, ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প রিভোকেবল ট্রাস্ট TMTG-এর প্রায় ৪১ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ট্রাস্টটি ট্রাম্পের সন্তানরা পরিচালনা করলেও এর আয়ের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী ট্রাম্প নিজেই।
সমালোচকদের অভিযোগ, প্রশাসনিক নীতি ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার পরিবার ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ওয়াশিংটনের অলাভজনক নজরদারি সংস্থা Citizens for Responsibility and Ethics in Washington (CREW)-এর সভাপতি ডোনাল্ড শেরম্যান বলেন, প্রেসিডেন্টের পোস্ট দ্রুত পাওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার এই ব্যবস্থা চরম অনৈতিক। তবে বর্তমান আইন অনুযায়ী এটি অবৈধ কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, চলতি বছরে TMTG-এর শেয়ারের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ কমেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য ছিল ৯ দশমিক ৬৬ ডলার, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

