নারায়ণগঞ্জে খেলাধুলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে খেলাধুলাকে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ, সাবেক খেলোয়াড়দের মাসিক ভাতা এবং মাঠের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা পরিষদ আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুন মাহমুদ বলেন, একসময় নারায়ণগঞ্জ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দীর্ঘদিন পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ের নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন খেলোয়াড় তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়েছে।
তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। বিশ্বের অনেক ছোট দেশও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশেরও সেই সক্ষমতা রয়েছে, তবে এর জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রীড়ার গুরুত্ব বাড়ানো হবে। এজন্য স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা একসময় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখেছেন, সেই সাবেক খেলোয়াড়দের জন্য সম্মানজনক মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ক্রমেই মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদের আবার খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ক্লাবের মধ্যে ১০টি করে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক এবং ক্রীড়াপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

