প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্যাবল চুরির ঘটনার তদন্তের মাঝেই, বিটিসিএল-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আহম্মেদ ফজলে রাব্বীকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ জুন ‘দৈনিক সকালের সময়’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ঢাকা দক্ষিণ এর ক্যাবল বিভাগের ফজলে রাব্বী দায় এড়াতে পারে না’ শীর্ষক সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
১৭ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহম্মেদ ফজলে রাব্বী দাবি করেন, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কর্মস্থল নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রকৃত সত্য
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি বিটিসিএল-এর একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ‘ডিজিএম ফোনস-১, নীলক্ষেত’ ঢাকা বিভাগের ক্যাবল ইউনিটে কর্মরত। অথচ বাংলাদেশ সচিবালয় ‘ডিজিএম ফোনস-১, রমনা’ ঢাকার আওতাধীন। স্বভাবতই সচিবালয় বা এর আশপাশের ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণের সাথে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব নেই।
তিনি আরও জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি বিভাগ ইতিমধ্যেই উক্ত ক্যাবল চোরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃত চোর ধরা পড়ার পরেও তাকে এই চুরির ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
সাজানো অভিযোগ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
ক্যাবল চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত জামাল হোসেন ও করিম প্রধানের ‘মদদদাতা’ হিসেবে ফজলে রাব্বীর নাম জড়িয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জানান, মো: জামাল ও করিম কখনোই তার সাথে চাকরি করেননি এবং তাদের সাথে তার কোনো প্রকার যোগাযোগ বা সম্পর্ক নেই।
তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারের পেছনে প্রতিপক্ষ এবং তাদের অনুসারী ২-৩ জন আওয়ামীপন্থী কর্মচারী জড়িত রয়েছেন বলে তিনি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি অভিযোগ করেন।
বদলি ও মহাসচিবের দায়িত্ব লাভ
আহম্মেদ ফজলে রাব্বী মূলত টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা, যিনি প্রেষণে বিটিসিএল-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চুরি, চাঁদাবাজি বা অপকর্মের কারণে তাকে অধিদপ্তরে ফেরত পাঠানো হয়নি; বরং বিটিসিএল-এর তৎকালীন এমডি মহোদয়ের সাথে সাধারণ কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বাক-বিতণ্ডা হওয়ার জেরে তাকে বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কর্মচারীদের সাধারণ সভার মাধ্যমে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে ‘মহাসচিব’-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, এই সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ইর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি একের পর এক বিভিন্ন পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। তিনি এই ধরণের ভিত্তিহীন সাংবাদিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এর পেছনে থাকা কুচক্রী মহলকে চিহ্নিত করার দাবি জানান।

