নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মাসদাইর এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হাসিবুর রহমান সাব্বির ওরফে ‘চশমা সাব্বির’-এর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এই সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার বাহিনী, মাদক সিন্ডিকেট ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (৮ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, রিমান্ডে এনে সাব্বিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এর আগে গত রোববার একটি চাঁদাবাজি মামলায় জামিনের আবেদন করতে আদালতে উপস্থিত হন সাব্বির। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ বছর বয়সী সাব্বির নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার বাসিন্দা। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ একাধিক মামলার আসামি তিনি। এলাকায় তিনি ‘চশমা সাব্বির’ নামে পরিচিত। বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন শ্রমিক অধ্যুষিত মাসদাইর গুদারাঘাট, হাজীরমাঠ, মিস্ত্রিবাগ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব্বিরের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। তার নাম শুনলেই অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকতেন।
গত ২৩ মে রাতে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এক পোশাক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সাব্বিরের বাহিনী। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে সাব্বিরের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় তাকে পাওয়া না গেলেও বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র, হাতবোমা, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা, প্রায় ৩ হাজার পিস ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত নিয়ে পৃথক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাব্বিরের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার সহযোগী, অস্ত্র ও মাদকের উৎস, এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ‘চশমা সাব্বির’-এর গ্রেপ্তার ও রিমান্ডকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত বিচার এবং তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

