ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। তবে ঘরমুখো যাত্রায় গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি ভাড়ার চাপ গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রয়োজনের তাগিদে অসাধু টিকিট বিক্রেতাদের কাছে জিম্মি হয়েও নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, সাড়ে ১২ থেকে ১৩০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৮০০ টাকা আর ১৪-১৫শ’ টাকার ভাড়া রাখা হচ্ছে ২ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৯টার দিকে শিমরাইল মোড়ের বাসস্ট্যান্ড ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হতে দেখা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছুটির দ্বিতীয় দিনের সকাল হতেই বাসস্ট্যান্ডের প্রতিটি টিকিট কাউন্টারে যাত্রীরা উপচে পড়া ভিড় করছেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের সুযোগে অসাধু টিকিট বিক্রেতারা বাড়তি টাকায় টিকিট বিক্রি করছেন। কোনো কোনো কাউন্টার কর্তৃপক্ষ ৬০০-৭০০ টাকাও অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে পূর্বের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানাতে চাইলে কয়েকজন টিকিট বিক্রেতা ঈদ উপলক্ষে আদায় করা হচ্ছে বলে ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত টাকায় ইম্পেরিয়েল পরিবহনের দুটি টিকিট কেটেছেন বেসরকারি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এই যাত্রী বলেন, সাধারণত আমরা সাড়ে ১২ থেকে ১৩০০ টাকায় কক্সবাজার যাই। ঈদ উপলক্ষে সেই টিকিট ১৮০০ টাকা করে কিনতে হলো। যাওয়ার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই কেনা লেগেছে। এই হলো আমাদের দেশ।
আগে ১৫০ টাকার থাকলেও আজ ২৫০ টাকায় জৈনপুর পরিবহনে মতলব যাচ্ছেন গার্মেন্টস কর্মী সায়েদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা সবসময় ১৫০ টাকায় মতলব যেয়ে থাকি। অথচ আজ আগের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি নিয়েছে। আমাদের যেহেতু যাওয়া লাগবে তাই বেশি ভাড়াতেই যাচ্ছি।
চাকরিজীবী আয়েশার অভিযোগ স্বাভাবিক সময়ে তিনি ৭০০ টাকায় সিলেট যেতেন। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে আগের থেকে ৫০ টাকা বাড়তি আদায়ে করা হয়েছে। তবে এতে তিনি অখুশি নন। কারণ গ্রামে পৌঁছানোই তার মূখ্য বিষয়।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সত্যতা জানতে শিমরাইল মোড়স্থ বাসস্ট্যান্ডের ইম্পেরিয়াল পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা আলী নূর বলেন, আগে ডিসকাউন্ট দিয়ে কক্সবাজারের ১৪-১৫শ’ ভাড়া রাখা হতো। এখন ঈদ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা করে। আজকের ভাড়া এটি।
বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সম্পর্কে জৈনপুর পরিবহনের স্টাফকে প্রশ্ন করা হলে জানান, আগে মতলবের ভাড়া ১৭০ টাকা ছিল। ঈদ উপলক্ষে ৮০ টাকা বাড়তি রাখছেন তারা।
বক্তব্যের জন্য শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের এখানে তেমন কাউন্টার নেই। কাঁচপুর থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। খোঁজ নিয়ে দেখবো আমি।

