ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সকল মামলায় জামিন মঞ্জুর হয়েছে এবং তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই এমন খবরে আইভী সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার অনুসারী ও নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে পোস্ট দিতে শুরু করেন।
আইভীর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মধ্যে থাকা সাবেক এই মেয়রের মুক্তির খবরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, খুব দ্রুতই তিনি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরবেন।
একাধিক সমর্থক বলেন, “আইভী শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক। তার মুক্তির খবরে সাধারণ মানুষও খুশি।”
এদিকে আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আদালত সংশ্লিষ্ট সব মামলায় জামিন মঞ্জুর করায় বর্তমানে তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত জটিলতা নেই। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, আইভীর মুক্তি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতায় তার সক্রিয় উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বিভিন্ন সময় একাধিক মামলার মুখোমুখি হন। তবে সাম্প্রতিক আদালতের আদেশের মাধ্যমে সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তির পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন হত্যা ও হামলার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি প্রায় এক বছর ধরে কারাবন্দী আছেন। এর মধ্যে একাধিক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে কয়েক দফা সেই জামিন স্থগিত হয়েছিল।
সর্বশেষ আপিল বিভাগ তার বিরুদ্ধে থাকা পাঁচ মামলার জামিন বহাল রেখেছেন। এছাড়া আরও কয়েকটি মামলায়ও তিনি জামিন পেয়েছেন। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা মোট ১২টি মামলায় জামিন রয়েছে এবং কারামুক্তিতে আপাতত বড় কোনো আইনি বাধা নেই।
তবে তিনি ঠিক কখন কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন, তা নির্ভর করছে আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছানো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না হওয়ার ওপর। সাধারণত সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে আদালতের মুক্তির আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর যে কোনো সময় তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

