ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এরপর থেকেই চাপে আছে ক্লাবটি।
দুই বছর আগে শুরু হওয়া একটি স্বাধীন তদন্তে সিটির বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এই রায় বিরাট প্রভাবও ফেলতে পারে ইংলিশ ফুটবলে। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গড়ে ওঠা সিটির সাফল্যময় যুগের উত্তরাধিকারও এখন প্রশ্নের মুখে
তবে এসবের মাঝেই গতকাল শনিবার ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মোবারক এক চিঠিতে সমর্থকদের নিশ্চিত করেছেন, এই রায়ে ক্লাবের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
ক্লাবের ওয়েবসাইটে সেই চিঠি প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রিমিয়ার লিগের এই প্রক্রিয়া এখনো অনেক দূর এগোতে হবে। ক্লাব যে নির্দোষ তা প্রমাণের ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস ও সংকল্প শুরুতে যেমন ছিল, এখনো তেমনই আছে।’
ক্লাব পরিচালকদের চেয়ারম্যান হিসেবে আল মোবারক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিটির সবচেয়ে সফলতম সময়ের সূচনা হয়। তার সময়েই সিটি আটটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য ট্রফি জিতেছে।
তিনি বলেন, ‘অনেকে দ্রুত নিজেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন এবং আমাদের ঘিরে অনেক আলোচনা চলছে। কিন্তু কিছুই বদলায়নি। এর আগেও আমরা একসঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি এবং সফল হয়েছি। এখনো অনেকে আমাদের ক্লাবের অগ্রযাত্রা থামাতে চায়। আমরা তাদের সেই সুযোগ দেবো না।’
২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ৮২.১- এর অধীনে সিটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। বেশির ভাগ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ক্লাবটির পয়েন্ট কাটা থেকে শুরু করে আরও কঠোর শাস্তি, এমনকি অবনমনও হতে পারে।
তবে সিটি জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ সম্পন্ন হওয়া বাকি। এ কারণে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া বিবৃতিতে ক্লাব যে অবস্থান জানিয়েছিল, সেটিই বহাল রয়েছে।
ক্লাবটি আরও বলেছে, গত আট বছর ধরে তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করেছে এবং প্রিমিয়ার লিগের বোর্ড ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও ন্যায়সংগত নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে। এই ভিত্তিতেই তারা পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে।

