নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে চাঞ্চল্যকর আইয়ুব হোসেন (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আইয়ুবকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করতে একজনকে ১০টি ইয়াবা ও ৩ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার তথ্যও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ সোনাপুর জালালাবাদ ঔষধ ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত ভাঙারি গোডাউনের পূর্ব পাশে একটি ডোবা থেকে সাদা প্লাস্টিকের মুখ বাঁধা বস্তাবন্দি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আইয়ুব হোসেনের স্ত্রী মোছা. মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল দিপংকর ঘোষের তত্ত্বাবধানে সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা এক ব্যক্তি লিটন খানের বালুর ড্রেজারে চাকরি করতেন। ওই ব্যক্তি ড্রেজার থেকে তেল চুরি করলে আইয়ুব বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং ড্রেজারের মালিককে জানিয়ে দেন। পরে ওই ব্যক্তির চাকরি চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইয়ুবের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দাবি, চাকরিচ্যুত ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার শাহিনুর ইসলাম ও জামির হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে আইয়ুবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ও ৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে শাহিনুরকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়। পরে শাহিনুর আইয়ুবকে তার ভাঙারির দোকানে প্রবেশ করিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজন হলেন—কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার মাস্টারপাড়া এলাকার মো. মানিক মিয়ার ছেলে মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০), বর্তমানে কাঁচপুর উত্তরপাড়ায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী এবং কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার মৃত ছাহাদ আলীর ছেলে মো. জামির হোসেন (৫৭)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহিনুর ইসলাম আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে সোনারগাঁ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

