ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ রমজান মাসে মুসলমানরা সুহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন। এটি আল্লাহর ফরজ বিধান। তবে ইসলামে এমন কোনো দায়িত্ব আরোপ করা হয়নি যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। দৈনন্দিন জীবনে কিছু কারণে রোজা ভাঙে না, যা অনেকেই জানেন না।
বিশ্বস্ত ইসলামী গ্রন্থের আলোকে জানা গেছে, নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে রোজা ভাঙে না—
🔹 ভুলে পানাহার বা স্ত্রীসম্ভোগ করলে রোজা ভাঙবে না। যদি রোজার শক্তি থাকে, তখন স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত।
🔹 অনিচ্ছাবশত ধোঁয়া, ধুলাবালি, মশা বা মাছি গলার মধ্যে গেলে রোজা ভাঙে না।
🔹 স্বপ্নদোষ হলেও রোজা নষ্ট হয় না।
🔹 তেল, সুরমা বা শিঙা লাগানো, কাঠি দিয়ে কান খোঁচানো বা মেসওয়াক করা রোজা নষ্ট করে না।
🔹 দাঁতের ফাঁকা জায়গা থেকে অল্প খাবার বা রক্ত গলায় গেলে রোজা ভাঙে না।
🔹 শরীর, মাথা, দাড়ি বা গোঁফে তেল লাগানো, ফুল বা মৃগনাভির ঘ্রাণ নেওয়া রোজা নষ্ট করে না।
🔹 মুখের থুতু, নাকের শ্লেষ্মা বা তিল পরিমাণে কোনো বস্তু গিলে ফেললেও রোজা ভাঙে না।
🔹 কপালের ঘাম, চোখের অল্প ফোঁটা অশ্রু গলার ভেতর গেলে রোজা নষ্ট হয় না।
🔹 সাধারণ ইনজেকশন, টিকা বা রক্ত বের করার ইনজেকশন রোজা নষ্ট করে না।
🔹 সাপ বা বিচ্ছু দংশন করলে, গরম পানিতে দীর্ঘ সময় থাকা, গোসল করা, নাকে পানি দেওয়া মাকরুহ হলেও রোজা ভাঙে না।
🔹 হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ঘ্রাণ নেওয়া, নাকে বা চোখে ওষুধ প্রয়োগ করা রোজা নষ্ট করে না।
জৈবিক উত্তেজনার কারণে শুধু দৃষ্টিপাতের ফলে বীর্যপাত হলেও রোজা ভাঙবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, রোজা সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। অনেক সময় অজানা কারণে মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ে। কুরআন, হাদিস ও নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থের আলোকে রোজার বিধান জানা থাকলে ইবাদত আরও নিশ্চিন্তভাবে আদায় করা সম্ভব।

