ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর ‘অফিস অব দ্য ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর)’-এর মাধ্যমে করানোর প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অটল এবং সম্ভাব্য তদন্তে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।
এদিকে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে অগ্রসর হয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। আইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
হাদির ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, রাজধানীর বিজয়নগরে হাদি গুলিবিদ্ধ হন। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি সিঙ্গাপুরে মারা যান। হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তার উপর গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
হাদির হত্যার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয় এবং মামলার তদন্ত ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন: প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

