ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তি-বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল বীর-উত্তম আব্দুল করিম খন্দকার (এ কে খন্দকার) আর নেই। শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি এক কন্যা, দুই পুত্র ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রোববার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশার প্যারেড গ্রাউন্ডে তার নামাজে জানাজা এবং গার্ড অব অনার অনুষ্ঠিত হবে।
এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এ কে খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় সৈনিক। তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা মুক্তিযোদ্ধা, সৎ ও সাহসী এবং আদর্শনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক। তার কর্ম, চিন্তা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। তার আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমানবাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং তার নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠিত হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখার জন্য ১৯৭৩ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন তিনি। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন এ কে খন্দকার।

